আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় কুমিল্লা জেলার দর্শনীয় স্থান. কুমিল্লা-জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ।
কুমিল্লা জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২৩°০২´ থেকে ২৪°৪৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°৩৯´ থেকে ৯১°২২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে কুমিল্লা-জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৯৭ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, মেঘনা নদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে ফেনী জেলা ও নোয়াখালী জেলা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমে চাঁদপুর জেলা, মেঘনা নদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা।

কুমিল্লা জেলার দর্শনীয় স্থান:-
| # | শিরোনাম | স্থান | কিভাবে যাওয়া যায় |
| ১ | উটখাড়া মাজার | দেবিদ্বার সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণে এবং কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। | দেবিদ্বার শহর হতে রিকসা যাওয়া যায়। |
| ২ | নূর মানিকচর জামে মসজিদ | নুরমানিকচর, দেবিদ্বার, কুমিল্লা। ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক’ এর নূরমানিকচর বাস স্টেশনের আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। | ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক’ এর নূরমানিকচর বাসস্টেশন থেকে রিক্সা যোগে যাওয়া যায়। |
| ৩ | বায়তুল আজগর জামে মসজিদ | গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়ন, দেবিদ্বার, কুমিল্লা। ‘গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদটি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিম কোনে দেবিদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবিদ্বার সদর থেকে দু’কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত। | দেবিদ্বার বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা বা সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। |
| ৪ | বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) | কুমিল্লা শহর হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। | কুমিল্লা শহর হতে সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। |
| ৫ | বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন | কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে অবস্থিত। | রিক্সা যোগে যাওয়া যায়। |
| ৬ | ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি | কুমিল্লা শহর হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে বুড়িচং উপজেলার কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত। | কুমিল্লা শহর হতে বাস, অটো রিকশা ও সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। |
| ৭ | শালবন বৌদ্ধ বিহার | কুমিল্লা শহর হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। | কুমিল্লা শহর হতে সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। কুমিল্লা সেনানিবাস বাসস্ট্যান্ড হতে সিএনজি, রিক্সা যোগে যাওয়া যায়। |
| ৮ | শাহ সুজা মসজিদ | কুমিল্লা শহরের মোগলটুলী এলাকায় (আদর্শ সদর উপজেলা)। | রিক্সা যোগে যাওয়া যায়। |
কুমিল্লা প্রাচীনকালে সমতট জনপদের অংশ ছিল। ১৭৩৩ সালে বাংলার নবাব সুজাউদ্দিন খান ত্রিপুরা রাজ্য আক্রমণ করে এর সমতল অংশ সুবাহ বাংলার অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ত্রিপুরা দখল করে। ১৭৬৯ সালে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে কোম্পানী একজন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। তখন ঢাকা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল কুমিল্লা। কুমিল্লাকে ১৭৭৬ সালে কালেক্টরের অধীনস্থ করা হয়।
১৭৯০ সালে কোম্পানী শাসনামলে ত্রিপুরা নামের জেলার সৃষ্টি হয় করা হয়। তৎকালে বর্তমান কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, শাহবাজপুর, হাতিয়া, ত্রিপুরার কিছু অংশ, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও মীরসরাই নিয়ে সমতল অঞ্চল নিয়ে ত্রিপুরা জেলা ও পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে পার্বত্য ত্রিপুরা নামে ভাগ করা হয়, এই জেলার সদর দপ্তর স্থাপিত হয় কুমিল্লায়।

১৮২১ সালে ত্রিপুরা জেলাকে ভাগ করে বর্তমান নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর নিয়ে ভূলুয়া জেলা গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে নোয়াখালী নামকরন করা হয়। ১৯৬০ সালে সদর দপ্তরের নামানুসারে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ জেলা প্রশাসক করা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু’টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।